46th BCS Viva Preparation 2023
যে-কোন জব ভাইভাতে নিজ জেলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েই থাকে। একজন চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীর নিজ জেলা সম্পর্কে আসলে কোন কোন তথ্য জানা প্রয়োজন তা এই লেখা থেকে বুঝে নিতে পারবেন।
আমার নিজ জেলা ঢাকা, তাই আমি ঢাকা জেলার বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এটা সাজিয়েছি। আপনিও আপনার নিজ জেলা সম্পর্কে এভাবে গুছিয়ে লিখে রাখতে পারেন। আর যাদের নিজ জেলা ঢাকা, তাদের তো একাদশে বৃহস্পতি
এই মহাযোগ্য ফ্রীতে পাওয়ায় ঢাকার বাসিন্দারা অবশ্যই আমাকে উপঢৌকন দিবেন আশাকরি:
বিঃদ্রঃ খুব তাড়াতাড়িই এই পোস্ট-টি ডিলেট করে দেওয়া হবে। সুতরাং দ্রুত সংরক্ষণ করুন।
আপনি ঢাকার সন্তান?
কতটুকু জানেন এই মেগাসিটি সম্পর্কে!
Witten by:
নাজমুল হাসান
38 BCS Cadre
Home District: Dhaka
আমার ঢাকা: "The City of Heritage and Hospitality" 46th BCS Viva Preparation

সমগ্র ঢাকা জেলার আয়তন: ১৪৬৩.৬০ বর্গ কিলোমিটার।
ঢাকা মহানগরীর আয়তন: ২৬৯.৯৬ বর্গ কিলোমিটার।
ঢাকা সিটির আয়তন: ৩০৬ বর্গ কিলোমিটার।
ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান: ২৩° ২২’ ৩০’’ – ২৪° ২২’ ২০’’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯° ৪১’ ৬’’ – ৯০° ৫৯” ২৩’’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
ঢাকার প্রায় মাঝবরাবর ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে। 43th BCS Viva Preparation

জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২৩,০০০। সাক্ষরতা হার: ৯৫.৭%
আদমশুমারি-২০১১ অনুযায়ী: জনসংখ্যা- ১ কোটি ২৫ লাখ। ঘনত্ব- ৮২২৯ জন/বর্গ কিলোমিটার। সাক্ষরতার হার: ৭০.৫০%

এবং বর্তমান ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সেটা স্থাপন করে নাম দেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। সেখান থেকেই ঢাকেশ্বরী>ঢাক্কা>ঢাকা নামকরণ হয়ে যায়। দুই, সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে বার ভূঁইয়াদের দমনের সুবিধার্থে ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবেদার ইসলাম খান ঢাকাকে প্রথম রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর তিনি এই আনন্দে ঢাক বাজানোর নির্দেশ দেন। সেই ঢাক থেকেই ধীরে ধীরে ঢাকা নামকরণ হয়ে যায়। 43th BCS Viva Preparation

রাজধানী: প্রথম রাজধানী হয় ১৬১০ সালে (সুবেদার ইসলাম খান)। স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা মোট চারবার (১৬১০, ১৬৬০-মীর জুমলা, ১৯০৫-বঙ্গভঙ্গের সময়, ১৯৪৭) রাজধানীর মর্যাদায় ছিল।
ঢাকা জেলা হয় ও জেলা প্রশাসকের পদ সৃষ্টি হয়: ১৭৭২ সালে (গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়)
ঢাকা বিভাগ হয় ও বিভাগীয় কমিশনারের পদ সৃষ্টি হয়: ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং এর সময়। (+চট্রগ্রাম ও রাজশাহী) পৌরসভা হয়: ১৮৬৪ সালে।
সিটি কর্পোরেশন হয়: ১৯৯০ সালে।
প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়: ১৯৯৪ সালে (১ম নির্বাচিত মেয়র মোঃ হানিফ)
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশে ভাগ করা হয়: ২০০২ সালের ২৯ নভেম্বর।
ঢাকা বিভাগে জেলা: ১৩ টি (মামুগোনাকি= মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ। + গাজীপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর। + ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও রাজবাড়ী) 46th BCS Viva Preparation
ঢাকা বিভাগে উপজেলা: ৮৮ টি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্টেশন: ৫০ টি
ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশন: ৪ টি (ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন) 43th BCS Viva Preparation
ঢাকা জেলায় সিটি কর্পোরেশন: ২ টি
ঢাকা জেলায় উপজেলা: ৫ টি (সাভার, ধামরাই, কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার)
ঢাকা জেলায় পৌরসভা: ৩ টি (সাভার, ধামরাই, দোহার)
ঢাকা জেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা: ৭৯ টি
ঢাকা জেলায় উন্নয়ন সার্কেল: ১ টি (তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল)


ঢাকা বিভাগে জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন সংখ্যা: ৯৪ টি।
ঢাকা জেলায় জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন সংখ্যা মোট: ২০ টি (আসন নং- ১৭৪-১৯৩ পর্যন্ত। প্রথম/১৭৪ নং/ঢাকা-১ আসন দোহার ও নবাবগঞ্জ আসন। শেষ/১৯৩ তম/ঢাকা-২০ আসন ধামরাই) 46th BCS Viva Preparation
আমার বর্তমান ঠিকানার সংসদীয় আসন নং- ১৮৫। এটা ঢাকা-১২ আসন হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের এমপি দুই নং সেক্টরে যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আমার স্থায়ী ঠিকানার সংসদীয় আসন নং- ১৯১, এটি ঢাকা-১৮ আসন হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের এমপি মোহাম্মদ হাবিব হাসান।

অবস্থান- প্রথম ১২ তলা সরকারি ভবন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
ঢাকা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় কমিশনার: মোঃ সাবিরুল ইসলাম (BCS-15 Batch)
ঢাকা বিভাগের প্রথম বিভাগীয় কমিশনার (স্বাধীনতা পরবর্তী): মাহবুবুর রহমান। 43th BCS Viva Preparation
বিভাগীয় কমিশনারের কাজ: জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক, পর্যবেক্ষণ, ও নিয়ন্ত্রন করা বিভাগীয় কমিমনারের প্রধান কর্তব্য। তিনি তাঁর অধিক্ষেত্রাধীন জেলাসমূহের কাজের সমন্বয় সাধন করেন।
বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রক। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কার্যাবলী বিভাগীয় পর্যায়ের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার তত্ত্বাবধান করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে তিনি বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগের উন্নয়ন সমন্বয় সভা, রাজস্ব সভা, আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা, আঞ্চলিক টাস্ক ফোর্সের সভা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভা (APMB) সহ বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে সহযোগিতা করতে তিনজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সাধারণ, রাজস্ব এবং উন্নয়ন আইসিটি ও এপিবিএম) রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে "জনগণের সভা" বলতে কী বোঝায়: বিভাগীয় কমিশনার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রমণকালে সাধারণতঃ জেলা/ উপজেলা পর্যায়ের কর্মাকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবি ও সাধারণ জনগণের সাথে শিক্ষামূলক আলোচনা সভা, সামাজ গঠনমূলক আলোচনা সভা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আলোচনা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত সভায় যোগদান করে থাকেন। এটিই জনগণের সভা হিসেবে পরিচিত।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মোট শাখা আছে: ২১ টি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শাখা: নেজারত শাখা, আইসিটি শাখা, সাধারণ শাখা, রাজস্ব শাখা, বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের গোপনীয় শাখা, স্থানীয় সরকার শাখা (পরিচালকের অধীন), মাঠ প্রশাসন শাখা, ভূমি হুকুম দখল শাখা ইত্যাদি।

অবস্থান: ১৬ জনসন রোড, সূত্রাপুর ঢাকা- ১১০০
বর্তমান জেলা প্রশাসক: জনাব আনিসুর রহমান (বিসিএস ব্যাচ-২৪) 46th BCS Viva Preparation
প্রথম জেলা প্রশাসক (স্বাধীনতা পরবর্তী): মোকাম্মেল হক।
উপমহাদেশের প্রথম জেলা প্রশাসক: টিসি স্কট (১৮৩৫)
জেলা প্রশাসককে তার কাজে সহযোগিতা করতে চারজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব, সার্বিক, ভূমি অধিগ্রহণ, শিক্ষা ও আইসিটি) ও একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাজ: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর হিসেবে এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত কাজ, জেলার প্রধান প্রোটোকল অফিসার, জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধান, নির্বাচন কালীন সময়ে জেলার প্রধান রিটার্নিং অফিসার, জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন।
জেলা পর্যায়ে সরকারের সকল প্রকল্প কিংবা বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন।
বিভাগীয় কমিশনারের সাথে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর। উপজেলার সাথে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন। 43th BCS Viva Preparation
{Deputy Commissioner-এর প্রকৃত বাংলা উপ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্তু বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে 'জেলা প্রশাসক'। জেলা প্রশাসকের প্রকৃত ইংরেজি District Administrator (ভারতে এই নামেই পরিচিত)। বাংলাদেশে Deputy Commissioner-কে জেলা প্রশাসক বলার কারণ নিম্নরূপ:
জেলা প্রশাসকের তিনটি মৌলিক পরিচয় তথা এনটিটি রয়েছে: Deputy Commissioner, District Magistrate & Collector। মূলত District Magistrate-এই পদবীর সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসক গ্রহণ করা হয়েছে।
কেননা Magistrate শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Magi stratus থেকে এসেছে, যার প্রকৃত বাংলা হচ্ছে "শাসক"। কিন্তু এই শাসক শব্দটাকে কিছুটা সহনীয় করে বাংলাদেশে বাংলায় "প্রশাসক" শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছে।}

জেলা ব্রান্ডিং-এর মূল শ্লোগান- "The City of Heritage and Hospitality" তথা " ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার শহর ”-এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা জেলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ও পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
এই জেলা ব্রান্ডিং এর সাথে জড়িত রয়েছে কয়েকটি বিষয়:
ক) জেলার ব্রান্ডিং এর প্রধান পণ্য হিসেবে "ঢাকাই মসলিনের" সার্বিক উন্নয়ন ও প্রসার।
খ) ঢাকা জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে ঢাকার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি।
এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সম্পদ (যেমন- ধামরাই অঞ্চলের কাসার তৈরি তৈজসপত্র), ঢাকাই মসলিনের পুনর্জন্ম, ঢাকাই খাবার ইত্যাদিকেও প্রমোট করার দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ২০১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা ব্রান্ডিং এর সূচনা করেন। 46th BCS Viva Preparation

২০ টি। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখা-
১) নেজারত শাখা: প্রধান- নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (AC/S.AC)। উল্লেখযোগ্য কাজ-
জেলার প্রটোকল সংক্রান্ত, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস, ডাক বাংলো ব্যবস্থাপনা, সরকারি বাসা বরাদ্দ, যান বাহন হুকুম দখল সহ বিভিন্ন কাজ।
২) জুডিশিয়াল মুন্সীখানা শাখা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি, মোবাইল কোর্ট, চোরাচালান প্রতিরোধ, জেল বিষয়ক, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ইত্যাদি কাজ।
৩) রাজস্ব শাখা: খাস জমি, জলমহাল, সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা। ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়, ভূমি সংস্কার, সিকস্তি ও পয়স্তি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি জরিপ, রেকর্ড ও আশ্রয় ইত্যাদি। 43th BCS Viva Preparation
৪) স্থানীয় সরকার শাখা: স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে সমন্বয়, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অনুমোদন, গ্ৰাম পুলিশ ও ইউপির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার (সাবেক সচিব) নিয়োগ, বেতন-ভাতা। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন ইত্যাদি।
৫) ই-সেবা শাখা: এটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের "ফ্রন্ট ডেস্ক" হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে নাগরিকদেরকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।
ডিসি অফিসে ডিসির সভাপতিত্বে যে সকল উল্লেখযোগ্য সভা হয়: জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন কমিটির সভা, জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা, এনজিও কার্যক্রম সমন্বয় সভা, নদী রক্ষা কমিটির সভা, রাজস্ব আদায় বিষয়ক সভা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সভা, জেলা মেজিস্ট্রেসি বিষয়ক সভা ইত্যাদি।

ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুর রহমান। ঢাকা জেলা পরিষদের কার্যালয়ের অবস্থান: রোড নং ১৩, সেক্টর-৬, উত্তর আজমপুর, উত্তরা।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা: মোঃ মামুনুর রশিদ (উপসচিব) 46th BCS Viva Preparation

মেয়ের: মোঃ আতিকুল ইসলাম।

মেয়ের: ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। 43th BCS Viva Preparation

প্রধান চারটি নদী তথা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বংশী ও বালু নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত।

তবে ধীরে ধীরে এটা বঙ্গোপসাগরের সাথে সরাসরি সংযোগ হাড়িয়ে ফেলে। এই বুড়িগঙ্গা নদীর উপরেই ১৮৬৪ সালে বাকল্যান্ড বাঁধ এবং ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।

সাভারের বিরুলিয়াতে এসে তুরাগ নদী দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। মূল শাখাটি আমিন বাজার হয়ে বুড়িগঙ্গায় পতিত হয়েছে এবং অন্য শাখাটি আশুলিয়া টঙ্গী হয়ে বালু নদীতে পড়েছে। মূলত দ্বিতীয় এই অংশটাই একসময় কহর দরিয়া নামে পরিচিত ছিল।
সম্পূরক তথ্য: তুরাগ নদী তীরের বিশ্ব ইজতেমা:
ইজতেমা একটি আরবী শব্দ, অর্থ সভা/সমাবেশ। তাবলীগ জামায়াতের প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার কাকরাইল মসজিদে ১৯৪৬ সালে। এরপর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১৯৫৮ সালে ইজতেমা শুরু হয়।
তবে ১৯৬৭ সাল থেকে "বিশ্ব ইজতেমা" নামকরণ হলে এর ব্যাপক স্থান সংকুলানের জন্য তুরাগ তীরকে বেছে নেয়া হয়। এরপর এই তুরাগ তীরেই ১৯৭২ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ২০১১ সাল থেকে বছরে দুটি ধাপের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়। 43th BCS Viva Preparation

বালু নদী: দৈর্ঘ্য ৪৪ কিমি। গাজীপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পারুলী নদী থেকে এর উৎপত্তি ও নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে পতিত হয়েছে।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।
মহাকবি কায়কোবাদ/কাজেম আর কোরায়শী। (জন্ম ১৮৫৭, নবাবগঞ্জ)
বিশ্বখ্যাত স্থপতি ফজলুর রহমান খান (ঢাকা)
কবি শামসুর রাহমান
মুক্তিযুদ্ধা ও পপ সম্রাট আজম খান।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক।
বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার লাকি আখন্দ।
UNO তে বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ারুল করিম চৌধুরী। 43th BCS Viva Preparation
বর্তমান সিভিল সার্ভিস প্রশাসনে কর্মরত ঢাকা জেলার উল্লেখযোগ্য সন্তান: প্রাক্তন অর্থ সচিব ও বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর।

শিল্পাঞ্চল হওয়ায় কৃষিতে ঢাকার অবদান বেশি নয়। তথাপিও বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু, মসুর, মাসকলাই, খেসারি, মটর, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, ধনিয়া সহ শীতকালীন শাকসবজির প্রচুর চাষ হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৮-১৯ অনুযায়ী ঢাকা জেলার উল্লেখযোগ্য কিছু কৃষি তথ্য:
বোরো ধান চাষ হয় ৪৭২৯০ হেক্টর জমিতে। ফলন- ৩.৭৯ মে.টন/হেক্টর। (ঢাকার সর্বাধিক জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়)
গম চাষ হয় ৬০ হেক্টর জমিতে। ফলন- ৩.০০ মে.টন/হেক্টর।
ভুট্টা চাষ হয় ৩৩০৯ হেক্টর জমিতে। ফলন- ৭.৬৫ মে.টন/হেঃ
আলু চাষ হয় ১৪২২ হেক্টর জমিতে। ফলন- ২৬.৩৩ মে.টন/হেঃ
সরিষা চাষ হয় ১১৫০০ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১.৩৩ মে.টন/হেঃ
মসুর চাষ হয় ৮০ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১.১৬ মে.টন/হেঃ
মাসকলাই চাষ হয় ১৩৬৭ একর জমিতে। ফলন- ১.৫ মে.টন/হেঃ
খেসারি চাষ হয় ২৪৫৫ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১.১ মে.টন/হেঃ
মটর চাষ হয় ৯২ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১.৪ মে.টন/হেঃ
পেঁয়াজ চাষ হয় ৩৩৬ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১০.১৫ মে.টন/হেঃ
রসুন চাষ হয় ৮৬৩ হেক্টর। ফলন- ৭.৬১ মে.টন/হেঃ
ধনিয়া চাষ হয় ১২৩৭ হেক্টর জমিতে। ফলন- ১.৩০ মে.টন/হেঃ
মরিচ উৎপাদন- ৯৬৪ মে.টন
শীতকালীন শাকসবজির উৎপাদন- ২৮,৪০৪০ মে.টন।

ঢাকাই মসলিনের পুনর্জন্ম: ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকাই মসলিনের পুনর্জন্মের বিষয়ে নির্দেশ দেন। এরপর বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। "বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার" শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
২০১৭ সালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে আব্দুল আজিজ নামে একজন ব্যক্তি সর্বপ্রথম মসলিন তৈরির প্রধান কাঁচামাল ফুটি কার্পাস নামক তুলা গাছের সন্ধান দেন। 43th BCS Viva Preparation
এরপর ২০১৭ সালে প্রস্তুতকৃত মসলিন কাপড়ের সন্ধানে গবেষক দল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া & আলবার্ট মিউজিয়ামে ভ্রমণ করে। এই মিউজিয়ামে ঢাকাই মসলিনের ৪০০ টির মতো শাড়ি ডিসপ্লে করা হয়েছে।
এরপর কাপাসিয়ার ঐ তুলা গাছের ফুটি কার্পাসের সাথে লন্ডনের ঐ মিউজিয়ামের নমুনা ম্যাচ করে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কাপাসিয়ার ঐ গাছের ফুটি কার্পাস তুলাই মসলিন তৈরির আসল কাঁচামাল। এরপর ধীরে ধীরে তাঁতী রুবেল ও ইব্রাহিমের হাতে ৬ টি মসলিন শাড়ি বুনন হয়।
প্রতিটি শাড়ির মূল প্রাথমিক ভাবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একটি শাড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও উপহার দেওয়া হয়।
বিঃদ্রঃ প্রথম মসলিনের শাড়ি বুনন করা হয়েছিল ১৭১০ সালে। বৃটিশরা মসলিন শব্দটিকে ইরাকের বিখ্যাত বাজার মসুল শহরের নাম থেকে গ্রহণ করে। এই বাজার সূক্ষ্ম বস্ত্র শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।
কিন্তু বাংলার ইতিহাসে 'মসলিন' বলতে বোঝানো হয় তৎকালীন ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত অতি সূক্ষ্ম এক প্রকার কাপড়কে। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত মসলিন কাপড়টির দৈর্ঘ্য ১০ গজ এবং চওড়া ১ গজ, এর ওজন মাত্র ৭ তোলা।
ঢাকাই বেনারসী: উৎপত্তি প্রাচীন ভারতীয় শহর বেনারস বা বারাণসীতে। শাড়িগুলো ভারতের সেরা শাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম যা সোনা এবং রূপার কিংবা জরি, সূক্ষ্ম রেশম এবং আকর্ষণীয় সূচিকর্মের জন্য খ্যাতি লাভ করেছে।
শাড়িগুলো সূক্ষ্ম রেশম তন্তুর তৈরি এবং জটিল নকশায় সজ্জিত ও নকশাকাটার কারণে তুলনামূলকভাবে ভারী ওজনের হয়ে থাকে। দেশ বিভাগের পর বেনারস অঞ্চল থেকে কিছু লোক আজকের ঢাকার মোহাম্মদ ও মিরপুর অঞ্চলে চলে আসে এবং ধীরে ধীরে মিরপুর-১০ অঞ্চলকে ঘিরে ঢাকাই বেনারসীর বিস্তার ঘটতে থাকে।
ধামরাইয়ের কাঁসা পিতল শিল্প: ঢাকার বৃহত্তম উপজেলা ধামরাইয়ের এই শিল্পের বিকাশ পাল আমলের শুরু হয়। এরপর ১৫৭৬-১৭৫৭ পর্যন্ত মোঘল আমলে এর বিকাশ ঘটে। নানাবিধ তৈজসপত্র, শো-পিচ সহ বিভিন্ন এন্টিক লুকের জিনিসপত্র তৈরি হয় এই কাঁসা পিতলের সংমিশ্রণে।
বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বের উন্নত প্রায় সব দেশেই এসব জিনিসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ২০০৭ সালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের অর্থায়নে কাঁসা শিল্পী সুকান্ত বণিক ও তার শিল্পকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছিল যেটি সুইজারল্যান্ডের একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রচার করা হলে বিশ্বব্যাপী এই শিল্পের পরিচিত আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। 43th BCS Viva Preparation
ঢাকাই ঐতিহ্যবাহী খাবার: পুরান ঢাকার বাকরখানী, বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, কাবুলি, খিচুড়ি, আচার, হালিম, পনির, দই, দই-ফুচকা, শাহী মালাইচপ মিষ্টি ইত্যাদি।



এটি একটি অসমাপ্ত কেল্লা। কন্যা পরী বিবির মৃত্যুতে শায়েস্তা খান এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। দরবার হল, হাম্মাম খানা, পরী বিবির মাজার, তিন গুম্বুজ বিশিষ্ট শাহী মসজিদ সহ একটি জাদুঘর বিদ্যমান।

সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা থেকে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী রজব আলীর নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা লালবাগ কেল্লা এবং এই পার্কেই সভা সমাবেশ করতো। ১৮৫৭ সালের ২২ মার্চ ইংরেজ মেরিন সেনারা লালবাগ কেল্লায় দেশীয় বিদ্রোহীদের আক্রমণ করে হত্যা করে।
এছাড়াও শীর্ষস্থানীয় ১১ জন বিদ্রোহীকে কোর্ট মার্শালে বিচার করে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। তাদেরকে এই পার্কেই জনসম্মুখে ফাঁসি দিয়ে লাস গাছে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
বিদ্রোহের পরে ১৮৫৮ সালে তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এই পার্ক থেকেই রাণী ভিক্টোরিয়ার ভারতবর্ষ শাসন ভার গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই থেকে আন্টাঘর ময়দান নাম পরিবর্তন হয়ে এর নাম হয়ে যায় "ভিক্টোরিয়া পার্ক"। সিপাহীরা শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহকে বিদ্রোহের পর সম্রাট হিসেবে মেনে নেয়ার সীদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সেই স্মৃতি বহন করেই সিপাহী বিদ্রোহের ১০০ বছর পূর্তিতে ১৯৫৭ সালে এই পার্কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে এর নামকরণ ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে পরিবর্তন করে করা হয় "বাহাদুর শাহ পার্ক"।
পার্কে সিপাহী বিদ্রোহের ঐ স্মৃতিস্তম্ভটি ছাড়াও খাজা আহসান উল্লাহর ছেলে খাজা হাফিজুল্লাহর একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির সংস্কার করেছে।


সাত গম্বুজ মসজিদ: ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত এই মসজিদটি ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।


তখন থেকে অদ্যাবধি ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদের প্রয়োজনেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্জন হল পুরাকীর্তির স্বীকৃতি প্রাপ্ত একটি স্থাপনা।



এখান থেকেই মীর জাফর পুত্র মীর মদনের নির্দেশে আমেনা ও ঘষেটি বেগমকে বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।

১৯৬০ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং স্থপতি আব্দুল হোসেন থারিয়ানির নকশায় ১৯৬৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করে।


এর আগ পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন হতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। সংসদ ভবনের চারিদিকের লেকটির নাম ক্রিসেন্ট লেক। ভবনটি মূলত তিনভাগে বিভক্ত: মেইন প্লাজা (অধিবেশন কক্ষ), সাউথ প্লাজা এবং প্রেসিডেন্ট প্লাজা। দ্বিতীয় তলার মেইন প্লাজায় এমপিদের জন্য ৩৫৪ টি সিট রয়েছে (যদিও সংসদের মোট আসন ৩৫০ টি। অর্থাৎ ৪ টি সিট বেশি রয়েছে)।
এছাড়াও গণমাধ্যম ও ভিআইপিদের জন্য আলাদা গ্যালারী রয়েছে। প্রথম তলায় রয়েছে গ্রন্থাগার ও তৃতীয় তলায় রয়েছে এমপিদের লাউঞ্জ। মানিক মিয়া এভিনিউ এর অভিমূখে সাউথ প্লাজাই হচ্ছে সংসদের মূল প্রবেশ পথ। উত্তর দিকে লেক রোডের সম্মুখীন প্রেসিডেন্ট প্লাজা মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারে ভূষিত। এটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন শেরেবাংলা নগরকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী করে দ্বিতীয় সংসদ ভবন স্থাপন।

এরপর নবাবী আমলে এবং এই উদ্যান সহ পুরো অঞ্চলের নামকরণ করেন শাহবাগ (রাজকীয় বাগান)। কিন্তু নবাবদের পতন হলে আবার পুনরায় রেসকোর্স নামেই পরিচিত হয়ে উঠে। পাকিস্তান আমলে প্রতি রবিবারে এখানে ঘৌড় দৌড়ের আয়োজন হতো। ১৯৪৯ সালে এই রেস বন্ধ হলেও নাম পরিবর্তন হয়নি।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু এই উদ্যানের নাম রেসকোর্স ময়দান থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান করেন। এই উদ্যানেই ১৯৬৯ এর ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি দেয়া হয়। ১৯৭১ এর ৩ জানুয়ারি এখানেই তিনি 'জাতির পিতা' উপাধি লাভ করেন। ৭-ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান ছিল এই উদ্যান।
১৯৭২ এর ১৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধী এই উদ্যানেই তাদের ভাষণ দিয়েছিল। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর ধীরে ধীরে এই উদ্যান থেকে স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই উদ্যানকে ঘিরে স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
২০১০ সালে হাইকোর্ট থেকে এই উদ্যানকে ঘিরে স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে একটি রায় দেওয়া হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান সরকার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই উদ্যানকে ঘিরে স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে এই উদ্যানের নামকরণ করা হবে স্বাধীনতা উদ্যান। বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ যাদুঘর "স্বাধীনতা যাদুঘর" প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৫ মার্চ ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই যাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। তবে পুরো প্রকল্পটা ৬৭ একরের বিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এটি জাতীয় যাদুঘরের একটি শাখা যাদুঘর। স্বাধীনতা যাদুঘরের স্থপতি মেরিন তাবাস্সুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। মূলত স্বাধীনতা জাদুঘরের তিনটি অংশ:
প্রথম অংশে আছে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বাংলার উৎপত্তি ও স্বাধীনতার জন্য বিভিন্ন সময়কার আন্দোলন। এটি শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি দিয়ে।
দ্বিতীয় অংশটি একটি অন্ধকার কুঠুরি। সেখানে একাত্তরের ভয়াবহ দিনগুলোর ছবি- নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ইত্যাদি। এই কুঠুরির নাম দেয়া হয়েছে ‘কালো অধ্যায়’-এর বাঁ দিকেই আছে "অশ্রুপাত" নামক ভূগর্ভস্থ ফোয়ারা-যেটি স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের মায়ের অশ্রুকেই নির্দেশ করে।
তৃতীয় অংশটি লড়াই-সংগ্রাম ও বিজয়ের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অপারেশন, আন্তর্জাতিক সাড়া ইত্যাদি। এটি শেষ হয়েছে বাঙালির বিজয় অর্জনের ছবির মধ্য দিয়ে।
সার্বিকভাবে যাদুঘরের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়:
- মুঘল শাসনামল থেকে বিজয় দিবস পর্যন্ত ঐতিহাসিক নানাবিধ ঘটনায় বর্ণনা বিশিষ্ট ১৪৪ টি কাঁচের তৈরি আলোকচিত্র।
- ১৫৫ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম।
- ইস্পাত কাঠামো দিয়ে তৈরি গ্লাস টাওয়ারের ১৫০ ফুট উঁচু ও ১৬ ফুট প্রশস্ত "স্বাধীনতা স্তম্ভ"। যেখানে নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেছিল সেখানেই এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
- "জনতার দেয়াল" নামে ইতিহাস ভিত্তিক টেরাকোটায় বিশ্বের দীর্ঘতম টেরাকোটা মুরাল, যার দৈর্ঘ্য ২৭৩ ফুট। ১৯৪৮-৭১ পর্যন্ত মুক্তি সংগ্রামের নানা ইতিহাস টেরাকোটায় খোদাই করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ম্যুরালের প্রথম অংশে দৃশ্যমান হবে বাঙালির চিরচেনা সেই লাইন : ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা। পর্যায়ক্রমে এ ম্যুরালে স্থান পেয়েছে তেভাগা আন্দোলনের চিত্র। এ ম্যুরালের রূপকার পাঁচ বিখ্যাত শিল্পী- মোহাম্মদ ইউনুস, মুকুল মকসুউদ্দীন, শিশির ভট্টাচার্য, ইফতেখারউদ্দিন আহমেদ এবং শ্যামল চৌধুরী।
- জাতীয় যাদুঘরে থাকা নিয়াজীর আত্মসমর্পণের মূল টেবিলের একটি রেপ্লিকা টেবিল স্বাধীনতা যাদুঘরে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান আছে "শিখা চিরন্তন":
শিখা চিরন্তন: বঙ্গবন্ধুর ৭-ই মার্চের ভাষণের স্থানে শিখা চিরন্তন তৈরির পরিকল্পনা করা হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৭ এর ৭-ই মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্থানে শিখা প্রজ্বলন করেন এবং দেশব্যাপী শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়।
একি বছর ১৭-ই মার্চ টুঙ্গিপাড়া ছুঁয়ে ২৬ মার্চ পুনরায় এই স্থানে বিশ্বনন্দিত চার নেতার হাতে শিখা চিরন্তনের উদ্বোধন হয়। এই চার নেতা হলেন- নেলসন ম্যান্ডেলা, তুরস্কের সুলেমান ডেমিরেন, ইয়াসির আরাফাত ও শেখ হাসিনা। একি দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

অবস্থান: ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে।
পূর্বে অবস্থিত ছিল: সেগুনবাগিচায়। ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ সেখানে উদ্বোধন করা হয়েছিল।
বর্তমান নতুন ভবনের উদ্বোধন: ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন।
প্রথম গ্যালারি: এতে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কালপর্বে এই জনপদের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রত্ননিদর্শন রয়েছে।
দ্বিতীয় গ্যালারি: এতে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ঘটনা থেকে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় প্রবাসী সরকার গঠন পর্ব পর্যন্ত রয়েছে।
এই গ্যালারিতে শব্দ ও আলোর প্রক্ষেপণের একটি বিশেষ প্রদর্শনী আছে। এতে ২৫ মার্চ বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বর্বরতা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার ঘোষণা, ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ার যুদ্ধ এবং সারা দেশের গণহত্যার নিদর্শন রয়েছে এই গ্যালারিতে।
আরো রয়েছে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া বাঙালিদের শরণার্থী হিসেবে ভারতে যাত্রা, সেখানে আশ্রয়, জীবনযাপনের ঘটনাবলি। এছাড়াও জাতীয় চার নেতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, জাতিসংঘের কাছে প্রবাসী সরকারের চিঠি, ছয়দফার পোস্টার, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল আছে।
তৃতীয় গ্যালারী: এতে সেক্টর কমান্ডার ও নৌ কমান্ডোদের পরিচিতি, ডা. মোঃ ফজলে রাব্বীর ব্যবহৃত গাড়ি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল আছে।
চতুর্থ গ্যালারী: বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙালির প্রতিরোধ গড়ে তোলার নিদর্শন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, গণমানুষের দুরবস্থা, যৌথ বাহিনীর অভিযান, বিভিন্ন অঞ্চলে বিজয়, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ঢাকায় পাকিস্তানি দখলদারদের আত্মসমর্পণ—এই ক্রমানুসারে সাজানো হয় শেষ গ্যালারিটি।
এছাড়াও ৭ বীর শ্রেষ্ঠের আলোকচিত্র, বীরাঙ্গনার স্মৃতি বিজড়িত নোয়াখালীর এক ব্যক্তির “দুই আনা পয়সা”, বঙ্গবন্ধুকে লেখা এক বীরাঙ্গনার পিতার চিঠি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল এখানে সংরক্ষিত আছে।
১ম তলায় রয়েছে শিখা অনির্বাণ। প্রবেশের মুখে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং ভারতের কাছ থেকে পাওয়া একটি ফাইটার বিমান। ভূগর্ভে রয়েছে তিনটি তলা। সব মিলিয়ে নয় তলা বিল্ডিং এটি।

তৎকালীন সময়ে ঢাকার ধানমন্ডি, পিলখানা সহ কিছু এলাকায় ভাওয়াল রাজারা অনেক হাতি পুষতো। ধানমন্ডি এলাকায় থাকা তাদের কিছু হাতি একদিন হঠাৎ করে বেগুনবাড়ি সংলগ্ন বর্তমান হাতিরঝিল (তৎকালীন বগা বিল) এলাকায় চলে আসে।
বগা বিলের পানি হাতিদের এতোই ভালো লাগে যে তারা বিলে নেমে যায় আর সব বগ পাখি উড়ে যায়। এরপর থেকে মাহুতরা হাতিগুলোকে নিয়মিতই এই বিলে গোসল করাতে নিয়ে আসতো। যার ফলে একসময় বগা বিল থেকে এর নাম হয়ে যায় হাতির বিল। কালের বিবর্তনে এই বিল ঝিলে পরিণত হয়ে নামকরণ হয় হাতির ঝিল।
বর্তমান হাতিরঝিল প্রকল্পটি ৯৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০২ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। হাতিরঝিল প্রকল্পের স্থপতি বা মূল নকশার পরিকল্পনাকারী স্থপতি এহসান খান।
ঢাকা মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে সড়ক ও নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অনন্য সুন্দর বিনোদন স্পট হিসেবে ব্যবহারের জন্য ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
এছাড়াও ঢাকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে লালকুঠি/নথব্রুক হল, গুরুদুয়ারা নানক শাহীর মাজার, তিন নেতার মাজার (সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন), রূপলাল হাউজ, ঢাবির মুসা খান সমাধী ও মসজিদ, জাতীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি মেমোরিয়াল যাদুঘর, জাতীয় যাদুঘর, মীরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (সম্মিলিত প্রয়াস) সহ অসংখ্য স্থাপনা।


নৌবাহিনী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও ভূমি মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে এই মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২০ এর ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চারটি নদীকে ঘীরে বৃত্তকার নৌপথ নির্মাণ, নদী তীরের সৌন্দর্য বর্ধন, নদী তীরে ৫২ কিমি ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ৪৪.৮০ কিমি নদী তীর রক্ষা, ১ কিমি ওয়াল নির্মাণ, ৩ টি ইকোপার্ক নির্মাণ, ১৯ টি আরসিসি জেটি নির্মাণ, ১০,৮২০ টি সীমানা পিলার বসানো সহ নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০২০ সাল পর্যন্ত নদী তীরের ২২০ কিমি জায়গা উদ্ধার, ৭০% সীমানা পিলার বসানো, ২৫৬৯ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, ৫০০ টন বর্জ্য অপসারণ, এক লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন, ২০ কিমি ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দুটি ইকোপার্কের কাজ শুরু সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
[তথ্য উৎস: আপ-টু জুন, ২০২১, বিআইডব্লিউটিএ]

প্রকল্পের অধীন ঢাকার খিলক্ষেতে কুড়িল ফ্লাইওভার, লিঙ্ক রোড নির্মাণ সহ সার্বিকভাবে ৬৮% কাজ ইতোমধ্যেই শেষ করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নে কাজ করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
[তথ্য উৎস: আপ-টু জুন ২০২১, রাজউক]

এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রথম উত্তরা টু মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিমি দৈর্ঘ্যের MRT-6 লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় এবং ২০১৬ সালের ২৬ জুন কাজের উদ্বোধন করা হয়।
এমআরটি-লাইন-৬: জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা (Japan International Cooperation Agency) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস রেপিড ট্রানজিট কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এটি। এর মধ্যে জাইকা দিবে ৮৫% অর্থ বাকিটা বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিমি।
মোট স্টেশন থাকবে ১৬ টি। মোট স্প্যান থাকবে ৭৭০ টি। গতিবেগ ৩২ কিমি/ঘন্টা। উভয় রুটে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার। জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই এর পরামর্শে মোট ৮ টি প্যাকেজে এর কাজ চলছে। সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৬৩.২৬%। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বরে প্রাথমিক পর্যায়ে দিয়াবারি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত লাইনের উদ্বোধন করা হয়। দিয়াবারি-আগারগাঁও-মতিঝিল-কমলাপুর পর্যন্ত পুরো অংশের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে। অন্যান্য প্যাকেজগুলোর অগ্রগতি নিম্নরূপ:
প্যাকেজ: অগ্রগতির হার:
আগারগাঁও টু কাওরান বাজার---- ৩৬.২৩%
কাওরান বাজার টু মতিঝিল------- ৩৮.৫৪%
বিদ্যুৎ সরবরাহ--------------------- ২৯.৪২%
রোলিং স্টক (রেল কোচ ও সরঞ্জাম)- ২০.৫০%
ডিপো উন্নয়ন--------------------------- ৬০%
উল্লেখ্য, মেট্রোরেলের ১ম স্প্যানটি বসে ২২-২৩ নং পিলারের উপর: ৭ এপ্রিল, ২০১৮
এবং জাপানের কোবে সমুদ্র বন্দর থেকে মোংলা বন্দর হয়ে রেল কোচের প্রথম ও দ্বিতীয় চালান আসে যথাক্রমে ৩১ মার্চ ও ২১ এপ্রিল ২০২২ তারিখে।
এছাড়াও জাইকার অর্থায়নে ৯৪ হাজার কোটি টাকার আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে ৩১ কিমি দৈর্ঘ্যের MRT-Line-1 (বিমান বন্দর টু কমলাপুর) এবং অন্যটি ২০ কিমি দৈর্ঘ্যের MRT-Line-5 (সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা)। উভয়টির কাজ শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যে।
[তথ্য উৎস: আপ-টু জুন ২০২১, Dhaka Mass Rapid Transit Authority]

নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২২ এর মার্চে।
যাত্রী পরিবহন শুরু ২০২৬ সালে।
মোট ব্যয়: ৫২,৫৬১ কোটি টাকা।
মোট দৈর্ঘ্য: ৩১.২৩ কিমি।
১২ টি প্যাকেজের মাধ্যমে কাজ শেষ হবে।
দুটি অংশ:
ক) বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশ যার দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭ কিমি।
খ) বিমানবন্দরের কাছ থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে উড়ালপথ যার দৈর্ঘ্য ১১.৩৬ কিমি।

উঠা নামার জন্য থাকবে ৩১ টি রেম (২৭ কিমি দৈর্ঘ্যের)। ঢাকার যানজট নিরসনে এটিই সর্ব বৃহৎ প্রকল্প। তিনটি ফেইজে এর কাজ চলছে। বিমান বন্দর থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত কাজের ধাপ ২০২২ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক এ.এইচ.এম.এস. আকতার। বর্তমান কাজের অগ্রগতি নিম্নরূপ:
ফেইজ: অগ্রগতির হার:
বিমানবন্দর টু বনানী---- ৬৩%
বনানী টু মগবাজার----- ১৭%
মগবাজার টু কুতুবখালী-- এখন কাজ শুরু হয়নি।
[তথ্য উৎস: আপ-টু জুন ২০২১, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর]



জি স্যার। ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছে মোট সড়কের ৭০ ভাগ৷ স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপি-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় কম-বেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন৷ এই প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা৷ বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন৷ অর্থাৎ তারা গণপরিবহন সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পান৷ সুতরাং আমি মনে করি ঢাকায় প্রাইভেট কারের লাইসেন্স প্রদান অনতিবিলম্বে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়া উচিত।
সম্ভব হলে ৫ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এই ৫ বছর লাইসেন্স প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ করা যেতে পারে। এছাড়াও শহরের মধ্যে রেল ক্রসিং গুলো উড়াল সড়ক দিয়ে নেয়া যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখা দরকার। তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা। এসব বিষয়ে নজর দিলে আমার মনে হয় সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে। তবে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপও এর সাথে কার্যকর রাখতে হবে।

এছাড়াও ঢাকার দখল হওয়া প্রায় ৬৫ টি খাল পুনরুদ্ধার করাও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও ঢাকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে বায়ু দূষণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী, খাল ও জলাশয় দূষণ ইত্যাদি।



এই প্লাটুনেই ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে শহীদ শফি ইমাম রুমী, বর্তমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীর প্রতীক, কাজী কামাল উদ্দিন বীর প্রতীক (ঢাকার সন্তান), পপ সম্রাট আজম খান, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাদেক হোসেন খোকা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সহ অনেকেই।
এই ক্র্যাক প্লাটুন তৈরির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, সদস্য বাছাইকারী ছিলেন শহীদুল্লাহ খান বাদল এবং প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন ১১ নং সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের। এদের আক্রমণের মূল কৌশল ছিল "হিট & রান"।
আগরতলা ক্যাম্পে স্বল্পমেয়াদী গেরিলা প্রশিক্ষণ শেষে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে ১৬ জনের প্রথম দলটিকে জুন মাসের শুরুর দিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
অন্য কোনো অস্ত্র ছাড়াই এই দলটি চারটি করে হাতবোমা আর ২০ পাউন্ড করে বিস্ফোরক নিয়ে ৬ জুন গোপনে ঢাকাতে প্রবেশ করে। ক্র্যাক প্লাটুনের উল্লেখযোগ্য অপারেশন হল-
- হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এক্সপ্লোসিভ চার্জ,
-পাঁচটি ১১ কেভি পাওয়ার স্টেশন আক্রমণ ও এক্সপ্লোসিভ চার্জ,
-যাত্রাবাড়ী ব্রিজে এক্সপ্লোসিভ চার্জ,
-হামিদুল হক চৌধুরীর প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিতে এক্সপ্লোসিভ চার্জ,
-বিডিআর গেট ও ধানমন্ডি আক্রমণ,
-গ্যানিজ ও ভোগ বিপণীকেন্দ্রে হামলা ও কয়েকটি পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রেনেড চার্জ,
-তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আক্রমণ (নেতৃত্বে ছিলেন আজম খান)
-তোপখানা রোডের ইউ এস ইনফরমেশন সেন্টার আক্রমণ।
-ফার্মগেট অপারেশন ইত্যাদি।

২৫ মার্চ আজিমপুর এলাকার কিছু ছাত্র ও যুবক পাক বাহিনীর উপর আক্রমণের জন্য তাঁদের গেরিলা কার্যক্রম শুরু করে। এই দলের দলনেতা ছাত্র আদিল খানের (টুটুল) নামে পরিচিত ছিল এই গেরিলা বাহিনী। নভেম্বরে নিউ মার্কেট পেট্রোল পাম্প উড়িয়ে দেওয়া ও আর্মি রিক্রুটমেন্ট অফিসে গ্রেনেড চার্জ ছিল এই বাহিনীর অন্যতম দুটি অপারেশন।

১৩ অক্টোবর গভর্নর মোনায়েম খানকে গেরিলা আক্রমণ করে হত্যা করেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা সাঁতারকুল ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক। গুলিবিদ্ধ মোনায়েম খান পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

অপারেশন ডেস্টিনেশন আন-নোন ইন ধানমন্ডি:
অপারেশনের জন্য পিরুলিয়া ক্যাম্প থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র নিয়ে ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বদি, আলম, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে রুমী, সেলিম সহ কয়েকজন গেরিলা যোদ্ধা ধানমন্ডির চার নং সড়ক থেকে আবুল মনসুর আহমেদের বড় ছেলে মাহবুব আনামের গাড়িটি ছিনতাই করে।
এই গাড়ি নিয়েই তারা ধানমন্ডি এলাকার আক্রমণের পরিকল্পনা করে। এই আক্রমণের সুনির্দিষ্ট কোন ডেস্টিনেশন ছিল না, বরং পরিকল্পনা ছিল চলতে চলতে আক্রমণ করা। সন্ধ্যা ৭:২৫ এ আলম গাড়ি চালিয়ে রওনা দেয়।
তার পাশে ছিল সেলিম ও কাজী এবং পিছনের সিটে মাঝখানে ছিল রুমী ও তার পাশে বদী ও স্বপন। প্রমথে তারা ২০ নম্বর রোডে চাইনিজ কূটনৈতিকদের বাসার সামনে একদল পুলিশকে আগে থেকেই দেখে আসছিল। কিন্তু অপারেশনের সময় সেই পুলিশদেরকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ হয়।
এরপর ১৮ নং সড়কে এসে ৮ জন মিলিটারি পুলিশকে হত্যা করে। এরপর মিরপুর রোডের চেক পোস্টেও দুজন আর্মিকে গুলি করে হত্যা করে। এ পর্যন্ত তেমন প্রতিরোধের মুখে না পড়লেও তাদের গাড়িটি গ্ৰীন রোডে আসা মাত্রই একটি আর্মির জীপ তাদের পিছু নেয়।
এ পর্যায়ে রুমী জীপটিকে লক্ষ্য করে গাড়ীর পিছনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গুলি চালিয়ে আর্মি জীপটিকে ধ্বংস করে। এভাবেই ধানমন্ডি অ্যাকশন সফল হয়।

এক) কসবা যুদ্ধ: তৎকালীন বৃহত্তর কুমিল্লা ও বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি উপজেলা কসবা। মন্দভাগ ও সালদা নদী সাব সেক্টরের অধীনে এই ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে (২২ অক্টোবর) প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা আর্টিলারী ছোড়া বন্ধ করে দিলে এই সুযোগে পাক বাহিনী আর্টিলারী ছুঁড়ে এবং ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।
এই যুদ্ধেই মেজর খালেদ মোশাররফ মাথায় স্প্লিন্টারের আঘাত পান। তবে বিলাত মিয়া, ল্যান্স নায়েক আবদুল হক সহ বেশকিছু যোদ্ধা সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে অনেক বীরাঙ্গনাকে উদ্ধার করে।
দুই) দারুইন যুদ্ধ: ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ২ নং প্লাটুনের সেকশন কমান্ডার সিপাহি মোস্তফা কামালের অসীম সাহসিকতা রচিত হয়েছিল সেদিন বাংলার মেঘাচ্ছন্ন আসমানে, বৃষ্টিস্নাত জমিনে। তুমুল বৃষ্টির মাঝে দক্ষিণ ও পশ্চিম- এই দুই দিক থেকে আসা হানাদার বাহিনীর আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাগণ কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
নিরাপদ পশ্চাদপসরণের জন্য দরকার নিখুঁত কভারিং ফায়ার। কিন্তু কে হবে এই সাহসী রিয়ারগার্ড যোদ্ধা। এগিয়ে আসেন সিপাহি মোস্তফা কামাল। তিনি তাঁর এলএমজি দিয়ে পূর্ণ উদ্যমে শত্রু অবস্থানের উপর গুলি চালাতে থাকেন। প্রায় দেড়শ’ পাক হানাদারকে শেষ করে দিলেন তাঁর অস্ত্রের ঝলকানিতে। সফল হলেন বীর মোস্তফা কামাল।
তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের নিরাপদ পশ্চাদপসরণ নিশ্চিত করলেন নিজের জীবন দিয়ে (১৮ এপ্রিল)। স্বাধীন বাংলাদেশের দরুইন গ্রামে তাঁর রণাঙ্গনের সেই ট্রেঞ্চের পাশেই চির নিদ্রায় শায়িত আছেন আমাদের এই বীরশ্রেষ্ঠ। (তার জন্ম: ভোলা জেলায়, ১৯৪৭ সালে)

আগস্ট মাসে এই হাসপাতাল আগরতলার সন্নিকটে শ্রী হাবুল ব্যানার্জির বাগানে (বিশ্রামগঞ্জ) স্থানান্তর ও সম্প্রসারিত করা হয়। এই হাসপাতালটি ছিল দু’শ শয্যার।
ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম, ডা. জাফরউল্লা চৌধুরী, ডা. মবিন ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নরত বহু ছাত্র-ছাত্রী এই হাসপাতালে নির্ঘুম চোখে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।


২ মার্চ স্বাধীকারের দাবিতে দেশ যখন উত্তাল তখন পশ্চিমা পাকিস্তানি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কারফিউ ভেঙে উত্তাল মার্চে মিছিল বের করে ছাত্র সংসদ। নেতৃত্বের কারণে আগে থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের টার্গেট ছিলেন ফারুক ইকবাল। ৩ মার্চ কলেজ ছাত্রসংসদ আবারো মিছিল বের করলে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হন ফারুক ইকবাল। তিনিই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। তিনি সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: সফিউল আলমের ভাই ছিলেন।
ফারুক ইকবালের পাশেই শায়িত আরেক কিশোর মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দীন। একাত্তরে সিদ্ধেশ্বরী বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র তসলিম যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ১৭ ডিসেম্বর শহীদ হন তিনি। ফারুক ইকবালের পাশেই সমাহিত করা হয় তাকে।
দীর্ঘদিন অযত্নে অবহেলায় পড়ে ছিল এ দুই শহীদের কবর। পরে ২০০৮ সালে এখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন।
[তবে কারো কারো মতে ৩ মার্চ সকালে নারায়ণগঞ্জের মিছিলে শহীদ হওয়া রংপুর কৈলাশ রঞ্জন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শঙ্কু সমজদার হলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। ফারুক ইকবাল শহীদ হন এ দিন বিকেলে।
তবে কৈলাশ শিশু হওয়ায় এবং পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করাতে অংশগ্রহণ না করায় ফারুক ইকবালকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে অধিকাংশ তথ্য সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে]

সেখানেই দুই পাকসেনা পুলিশের ৩০৩ রাইফেলের গুলিতে নিহত হয়৷ এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম পাক বাহিনী হত্যার আক্রমণ৷ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
তৎকালীন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ওয়্যারলেস অপারেটর ছিলেন শাহজাহান মিয়া। তিনিই পাক বাহিনীর আক্রমণের সংবাদটি নিজ হাতে লিখে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে প্রথম প্রচার করেন।
বার্তাটি ছিল নিম্নরূপ:
‘দ্য বেস ফর অল স্টেশন ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, কীপ লিসেনিং, ওয়াচ, উই আর অলরেডি অ্যাটাক্ড বাই পাক আর্মি, ট্রাই টু সেভ ইয়োরসেলফ্, ওভার এন্ড আউট৷'
রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দুর্জয় ভাস্কর্যটি (ভাস্কর মৃণাল হক) আজও সেই স্মৃতির স্মরণে দাঁড়িয়ে আছে।
[বিঃদ্রঃ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য "জাগ্রত চৌরঙ্গী": এটি ১৯৭৩ সালে নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত এটিই প্রথম ভাস্কর্য। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চের আন্দোলন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।
আর এই প্রতিরোধযুদ্ধে শহীদ হুরমত উল্যা ও অন্য শহীদদের অবদান এবং আত্মত্যাগকে জাতির চেতনায় সমুন্নত রাখতে জয়দেবপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে স্থাপন করা হয় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকর্ম জাগ্রত চৌরঙ্গী]

প্রবেশের আগে: টিকেট ৫ টাকা। মোবাইল জমা বাইরের নির্ধারিত স্থানে। গেটে ছবি তোলা ও আইডি গ্রহণ। এছাড়াও বাইরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তবক।
প্রবেশের পর: বাম দিক দিয়ে মূল ভবনের দিকে যাত্রা। মূল ভবনে ঢোকার আগেই বাঁয়ে বঙ্গমাতার রান্নাঘর এবং অ্যালুমিনায়ামের হাঁড়ি, বাটি, চা কাপ, হারিকেন সহ তৈজসপত্র। মূল ভবনে ঢোকার সময় নিচে বকুল কাঠের শো-পিচ ও বুকশেলফ।
মূল ভবনের নিচতলায়: বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন উপহার, দেয়ালে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, অতিথি কক্ষে সোহরাওয়ার্দী ও একে ফজলুল হকের ছবি, ও সোফা টেবিল। পাশেই বঙ্গবন্ধুর অফিস কক্ষে আনোয়ার সাদাত প্রদত্ত উপহার কোরআন শরীফ, বসার চেয়ার টেবিল।
করিডোরে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের ১৬ সদস্যের ছবি, কালো ও সোনালী রঙের দুটি কলম। এই কলম দুটি দিয়েই শেখ হাসিনা (কালো কলম) ও শেখ রেহানা (সোনালী কলম) এই বাড়িকে ট্রাস্টের হাতে তুলে দিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
মূল ভবনের দ্বিতীয় তলা: ঢুকতেই বাঁয়ে রাসেলের অ্যাকুরিয়াম। বায়ের প্রথম কক্ষটি শেখ হাসিনার। ২য়টি বঙ্গবন্ধুর যেখানে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর একজোড়া জুতা, লাল, সবুজ ও সাদা রঙের তিনটি ফোন, রেডিও, রক্তের দাগ ও মগজের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা চিহ্ন।
বঙ্গবন্ধুর কক্ষেই নিহত হন বঙ্গমাতা, দুই পুত্র বধু, শেখ জামাল, রাসেল। মাঝের ডাইনিং এ আছে আচার, বক্স টিভি, খাবার টেবিল ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধু কক্ষের বামেই রেহানার কক্ষ যেখানে এখন প্রদর্শিত হচ্ছে- বঙ্গবন্ধুর রক্তমাখা পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, মার্কিন চাদর, বঙ্গমাতার রক্তমাখা শাড়ি, রাসেলের রক্তমাখা শার্ট, ৫ বোতামের মুজিব কোট, পাইপ, ইত্যাদি।
রেহানার কক্ষের ডানে শেখ জামালের কক্ষ। এখানে আছে ৩ টি হকি, ১ টি ক্রিকেট ব্যাট, সহ কিছু তৈজসপত্র। রেহানার কক্ষের ডানেই সেই সিঁড়ি যেখানে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের আঁকা বঙ্গবন্ধুর পোর্টেইট, পাশেই লেখা “অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে দেখ, বাংলার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘাতকেরা এখানেই হত্যা করেছিল।
দেয়ালে রয়েছে এখনো বুলেটের দাগ, সিঁড়ির চাতালে ভালোবাসা ভরা বিশাল বুক নিঃসৃত রক্তের দাগ।“ দেয়ালে ৯ টি গুলির চিহ্ন। বাম দিকের দেয়ালে জাতীয় পতাকা।
তৃতীয় তলা/ছাদ: ডান দিকের শেখ কামালের কক্ষে ২ টা সেতারা, ১ টি অরগান, সহ কিছু তৈজসপত্র। শেষ প্রান্তে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আলোচনার কক্ষ।
শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুন প্রদর্শন গ্যালারী: এটি বঙ্গবন্ধুর ৩২ নং বাড়ির পাশে নতুন
নির্মিত সম্প্রসারিত জাদুঘর। নিচ তলায় রয়েছে একটি ডিজিটাল অডিটোরিয়াম। উপরে রয়েছে তিনটি
গ্যালারি:
১ম গ্যালারি/৪র্থ তলা: বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বাণী।
২য় গ্যালারি/৩য় তলা: বঙ্গবন্ধুর জীবনী, ৭ মার্চের ভাষণ, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ইত্যাদি।
৩য় গ্যালারি/২য় তলা: বঙ্গবন্ধু সরকারের আন্তর্জাতিক সফলতার ডকুমেন্ট, বাকশালের প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণ, OIC তে অংশগ্রহণের শর্তে পাকিস্তানের স্বীকৃতি আদায় সহ বিভিন্ন তথ্যচিত্র, বঙ্গবন্ধুর পাসপোর্ট ইত্যাদি।
বের হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর আদরের কবুতরের বাসা।







সচিবালয়ের ১ ও ২ নং গেইট সংলগ্ন এলাকা (১৯৪৮, ১১ মার্চ এখানে থেকেই বঙ্গবন্ধু সহ কতিপয় ছাত্রনেতাকে আটক করা হয়), নবাবপুর (তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের অফিস), ঢাবির ফজলুল হক হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা, জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম (তৎকালীন পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক আইন পরিষদের কার্যালয়) ইত্যাদি।















জননী ও গর্বিত বর্ণমালা: পরীবাগ মোর, মৃণাল হক।

BIMSTEC: গুলশান-২, ঢাকা।
CIRDAP: চামেলি হাউস, ১৭ তোপখানা রোড, ঢাকা।
ICDDR,B: মহাখালী, ঢাকা
International Jute Study Group (IJSG): ১৪৫, মনিপুরীপাড়া, ঢাকা।
Comments
Post a Comment